Header Ads

Header ADS

উদ্ভিদবিজ্ঞানঃ বহুভ্রূণিতা (Polyembryony) কী ? বহুভ্রূণিতার প্রকারভেদ।

 বহুভ্রূণিতাঃ 

আমরা জানি, নিষেক শেষে ডিম্বক বীজে পরিণত হয়। প্রতিটি ডিম্বকে একটি ভ্রূণথলি উৎপন্ন হয়। একটি ভ্রূণথলি থেকে একটি ভ্রূণ তৈরি হয়। অনেক সময় একটি বীজে একাধিক ভ্রূন উৎপন্ন হয়।

বহুভ্রূণিতা


“যখন একটি বীজে একাধিক ভ্রূণ সৃষ্টি হয় তখন তাকে বহুভ্রূণিতা (Polyembryony বলে”।

আম ও লেবু জাতীয় ফলে অনেক সময় বহুভ্রূণিতা দেখা যায়।

সর্বপ্রথম বিজ্ঞানী A. Van Leewenhoek  লেবু জাতীয় উদ্ভিদে বহুভ্রূণিতা লক্ষ্য করেন।


প্রকারভেদঃ

বিজ্ঞানী Schnarf (1929) বহুভ্রূণিতাকে দুটি ভাগে ভাগ করেন।

১. প্রকৃত বহুভ্রূণিতা (True polyembryone) ঃ

যখন একটি ভ্রূণথলিতে একাধিক ভ্রূণ সৃষ্টি হয় তখন তাকে প্রকৃত বহুভ্রূণিতা বলে।

২. মেকি বহুভ্রূণিতা (False Polyembryone) ঃ

যখন একাধিক ভ্রূণথলি থেকে একাধিক ভ্রূণ সৃষ্টি হয় তখন তাকে মেকি (False Polyembryone) বহুভ্রূণিতা বলে।


বহুভ্রূণিতার উৎপত্তিঃ

বহুভ্রূণিতার উৎপত্তি চার ভাবে হয়ে থাকে।

যেমনঃ 

১. জাইগোট বা জাইগোট থেকে সৃষ্ট প্রাথমিক ভ্রূণ বিদীর্ণ হয়ে।

২. ভ্রূণথলিতে উপস্থিত ডিম্বাণু ও অন্য কোন কোষ থেকে সৃষ্ট একাধিক ভ্রূণ।

৩. ডিম্বকে একাধিক ভ্রূণথলি থেকে উৎপন্ন একাধিক ভ্রূণ।

৪. ডিম্বকে একাধিক স্পোরোফাইট কোষ থেকে সৃষ্ট  ভ্রূণথলি থেকে একাধিক ভ্রূণ।


বিদীর্ণ বহুভ্রূণিতা (Cleavage Polyembryone)|

এ পদ্ধতিতে বীজে বহুভ্রূণিতা অধিক হারে হয়ে থাকে। নগ্নবীজী উদ্ভিদে এ ধরনের 

বহুভ্রুণিতা দেখা যায়।

জাইগোট বা প্রাথমিক ভ্রূণ বিদীর্ণ হয়ে বহুভ্রূণিতা উৎপন্ন হয়।

বিজ্ঞানী Jeffery (1895)  Erythronium americanum বহুভ্রূণিতা সর্বপ্রথম লক্ষ্য করেন।

আবৃতবীজী উদ্ভিদে  Vanda (Orchidaceae)  গোত্রে এই পদ্ধতিতে সৃষ্ট বহুভ্রূণিতা দেখা যায়।

Swamy (1943) Eulophia epidendria (Orchid) উদ্ভিদে  তিন  উপায়ে ভ্রূণ সংখ্যার বৃদ্ধি  দেখেন।

১. জাইগোট অনিয়মিত বিভাজিত হয়ে কোষ গুচ্ছের সৃষ্টি করে পরবর্তিতে ক্যালাজা প্রান্তের কোষ সক্রিয় হয়ে নিয়মিত কোষ বিভাজনের মাধ্যমে  একাধিক ভ্রূণ উৎপন্ন হয়।

২. প্রাথমিক ভ্রূণ থেকে কয়েকটি কুড়ি বা উপবৃদ্ধি তৈরি হয়। পরবর্তিতে কুড়ি বা উপবৃদ্ধি নিয়মিত বিভাজন শেষে একাধিক ভ্রূন সৃষ্টি হয়।

৩. নলাকার প্রাথমিক ভ্রূণ কয়েকটি শাখা বিস্তার করে ও সেখান থেকে কয়েকটি  ভ্রূণ উৎপন্ন করে বহুভ্রূনিতার সৃষ্টি হয়।




ক. জাইগোট বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণীয় গুচ্ছ কোষের উৎপত্তি





খ. প্রাথমিক ভ্রূণ হতে অতিরিক্ত ভ্রূন উৎপন্ন হয়। 




গ. একটি ভ্রূণ বিদীর্ণ হয়ে একাধিক ভ্রূণ উৎপন্ন।


ভ্রূণথলিতে ডিম্বাণু ছাড়া অন্য কোষ থেকে ভ্রূণ উৎপত্তিঃ

ভ্রূণথলিতে উপস্থিত অন্য কোষ যেমন : সঙ্গী কোষ বা এন্টিপোডাল কোষ থেকেও ভ্রূণ উৎপত্তি হতে পারে।

১.সঙ্গীকোষ হতে ভ্রূণঃ

 একাধিক ভ্রূণ উৎপন্নের ঘটনায় সঙ্গীকোষ অংশগ্রহণ করে।সঙ্গীকোষ নিষেক পদ্ধতি বা নিষেক পদ্ধতি ছাড়াই ভ্রূণ উৎপন্ন করে।এর ফলে হ্যাপ্লয়েড বা ডিপ্লয়েড ভ্রূণ তৈরি হতে পারে। একাধিক পরাগনল যখন ভ্রূণথলিতে প্রবেশ করে তখন একাধিক  পুংগ্যামিট সঙ্গীকোষের নিষেক ঘটায়। 

যেমনঃ Najas minor, Fragaria vasca, Tellima grandiflora, Poa alpinia ইত্যাদি উদ্ভিদে নিষিক্ত সঙ্গীকোষ হতে ভ্রূণ তৈরি হয়।

কিছু উদ্ভিদ আছে যেখানে অনিষিক্ত সঙ্গীকোষ হতে ভ্রূণ তৈরি হয়। 

যেমন:Argemone maxicana, Phaseolus vulgaris


২. এন্টিপোডাল কোষ হতে ভ্রূণঃ

কিছু কিছু উদ্ভিদে এন্টিপোডাল কোষ ডিম্বাণুর মতো আচরণ করে এবং নিষেক ক্রিয়া ঘটায় এবং ভ্রূণ তৈরি করে । যেমন:  Paspalum scrobiculatum, Ulmus amerianus, Allium odorum.

No comments

Powered by Blogger.