Header Ads

Header ADS

উদ্ভিজ্জাত রাসায়নিক দ্রব্য (Phytochemicals)

 

                                      ভেষজ ঔষধি দ্রব্য





জীবন ধারনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য তৈরি করে থাকে।

এসব রাসায়নিক দ্রব্য মানুষ ও বিভিন্ন প্রানীর জন্য প্রয়োজনীয়।যেমন: শর্করা, আমিষ, স্নেহ দ্রব্য। অনেক রাসায়নিক দ্রব্য্ প্রাণির উপর ক্রিয়াশীল।যেমন: Glycoside, Alkaloid, Tanin, Volatile oil ইত্যাদি। এসব রাসায়নিক দ্রব্য গুলোকে গৌণ বিপাক দ্রব্য (Secondary Metabolites) বলা হয়।

রাসায়নিক দ্রব্যের পিস্থিতির কারনে ভেষজ দ্রব্য ঔষধি গুণ সম্পন্নবা বিষাক্ত হয়ে থাকে।

 ভেষজ ঔষধি দ্রব্য দু’ভাবে ওষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

১. সরাসরি অপরিশোধিত ভেষজ দ্রব্য হিসাবে।

২. তাদের কোষাভ্যন্তরে রাসায়নিক উপাদান নিষ্কাশন করে।

নয়নতারা হতে বিভিন্ন অ্যালকালয়েড পাওয়া যায়


 

    ভেষজ ঔষধি দ্রব্যের রাসায়নিক উপাদানঃ

ভেষজ উদ্ভিদে অনেক ধরনের রাসায়নিমক উপাদান বিদ্যমান। এদের সবগুলো প্রাণিদেহের উপর ক্রিয়াশীল হয় না। যে সকল রাসায়নিক উপাদান প্রাণিদেহের উপর ক্রিয়া করতে সক্ষম তাদেরকে ভেষজ দ্রব্যের সক্রিয় উপাদান (Active chemical constituents) বলে।

ভেষজদ্রব্যের রাসায়নিক উপাদান সমূহকে নিম্মোক্ত শ্ণিতে ভাগ করা যায়।

ü        শর্করা জাতীয় দ্রব্যঃ

এসব দ্রব্য উদ্ভিদের মুখ্য বিপাক দ্রব্য। এরা  C, H, O সহযোগে গঠিত-OH গ্রুপ সম্বলিত এলডিহাইড বা কিটোন এলকোহল। যেমনঃ গ্লোকোজ, সোক্রোজ,।

 

ü          গ্লাইকোসাইডঃ

এরা এক প্রকার যৌগিক রাসায়নিক দ্রব্য। এদেরকে রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে অন্য যৌগের সাথে এক বা একাধিক চিনির অনু পাওয়া যায়। যেমনঃ Digitoxin, Diosgenin, Sennosides ইত্যাদি।


ü         উদ্বায়ী তেলঃ

যে সব তেল  সাধারণ তাপ ও বায়ুচাপে বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে  যায় এমন সুগন্ধযুক্ত তেলজাতীয় পদার্থকে উদ্বায়ী তেল বলে।

এদেরকে অত্যাবশ্যকীয় তেলও বলে।

যেমনঃ পুদিনার তেল, দারুচিনির তেল, লেবুর তেল, লবঙ্গের তেল, এলাচির তেল।

 

ü      স্নেহ দ্রব্যঃ

অনুদ্বায়ী তেল, চর্বি এবং মোমকে সম্মিলিতভাবে স্নেহদ্রব্য বলা হয়্।

উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় উৎস থেকেই স্নেদ্রব্য পাওয়া যায়।

যেমনঃ বাদাম তেল, ভেরেন্ডার কতল, সয়াবিন তেল, কডলিভার তেল।


 

ü        ট্যানিনঃ

ট্যানিন একাধিক –OH গ্রুপ সম্বলিত ফিনলজাতীয় এক প্রকার জটিল রাসায়নিক দ্রব্য।

ট্যানিন আমিষের সাথে বিক্রিয়া করে তার অধ:ক্ষেপ ফেলতে সক্ষম।

যেমন: Catechol, gallic acid, cinchotannic acid, gallotanic acid

 

ü       অ্যালকালয়েডঃ

প্রাণিদেহের উপর ক্রিয়াশীল উদ্ভিদজাত নাইট্রোজেন সম্বলিত ক্ষার জাতীয় রাসায়নিক দ্রব্যকে অ্যালকালয়েড বা উপক্ষার বলে। উপক্ষার প্রধানত C, H ও N সহযোগে গঠিত।

অ্যালকালয়েড কঠিন বা তরল পদার্থ হতে পারে।

কঠিন উপক্ষারের মধ্যে আছে- Atropine,  quinine, morphine  ,Vinblastine, reserpine  ইত্যাদি।

তরল অ্যালকালয়েডের মধ্যে আছে- Nicotine, Coinine, Sparteine ইত্যাদি।


 

ü         ভিটামিনঃ

মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণীর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও কার্যক্ষমতার  জন্য প্রয়োজনীয় এক প্রকার রাসায়নিক যৌগ।

উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহে ভিটামিন সংশ্লেষিত হয়ে থাকে।

যেমনঃ Thiamine, riboflavin, ascorbic acid  ইত্যাদি।


 

ü          এনজাইমঃ

এনজাইম জীবদেহে উৎসারিত এক ধরনের জৈবরাসায়নিক যৌগ যা নিজে অপরিবর্তিত থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে থাকে।

বিভিন্ন এনজাইমের মধ্যে আছে- Pepsin, Papaine ইত্যাদি।

 

ü          এন্টিবায়োটিক্সঃ

এন্টিবায়োটিক্স বিভিন্ন অণুজীব থেকে সংশ্লেষিত এক প্রকার জৈব রাসায়নিক দ্রব্য যা বিভিন্ন অণুজীব বিশেষ করে ক্ষতিকারক ও রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব প্রতিরোধ ও ধ্বংস করতে সক্ষম।

যেমনঃ Penicillium, streptomycin, erythromycin.


 

ü           কীটনাশকদ্রব্যঃ

অণুজীব, কীট-পতঙ্গ,পোকা-মাকড়,ইঁদুরজাতীয় প্রাণী,আগাছা ইত্যাদি প্রতিরোধ ও ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন অজৈব ও জৈব রাসায়নিক দ্রব্যকে সাধারণভাবে কীটনাশক বলা হয়।

বিভিন্ন উদ্ভিদে কীটনাশক বিদ্যমান।

Nicotine, Pyrethrin ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ কীটনাশক।


1 comment:

Powered by Blogger.