Header Ads

Header ADS

একক কোষ আবাদ: Single Cell Culture - Honours 4th Year-NU

 

কোষ আবাদ কী?


একক কোষ পৃথক করে কৃত্রিম পুষ্টি মিডিয়ামে জীবাণুমুক্ত আবাদ করে এর সংখ্যা বৃদ্ধি করাকে সাধারণভাবে কোষ আবাদ বলা হয়।

১৯০২ সালে জার্মান বিজ্ঞানী হেবারল্যান্ড সর্বপ্রথম সুপুষ্পক উদ্ভিদের পাতা থেকে

 একক কোষ পৃথককরণ এবং আবাদ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি এ কাজে সফল হন নি।

১৯৫৪ সালে বিজ্ঞানী Muir ও তার সহকর্মীগণ একক কোষ আবাদের মৌলিক পদ্ধতি ( নার্স কালচার) উদ্ভাবন করেন।


Plant Tissue Culture




১৯৬০ সালে Jones ও তার সহকর্মীগণ একক কোষ আবাদের জন্য ঝুলন্ত ফোঁটা পদ্ধতি এবং Bergmann কর্তৃক সেল প্লেটিং পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়।


একক কোষ আবাদ তিনটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন করা হয়-


ক) একক কোষ পৃথককরণ

খ) কোষ সাসপেনসন তৈরি এবং সংরক্ষণ

গ) কৃত্রিম আবাদ মিডিয়ামে আবাদ করে এর সংখ্যা বৃদ্ধি।


একক কোষ পৃথককরণঃ


উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ থেকে একক কোষ পৃথক করা হয়। যেমন- পাতা, বিটপ,

 হাইপোকোটাইল, এপিকোটাইল,আবাদী কোষ গুচ্ছ (ক্যালাস) এবং উদ্ভিদের দ্রুত বর্ধিষ্ণু অঞ্চল।

তবে পাতাকে উৎকৃষ্ট উৎস হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কারন পাতা থেকে অধিক পরিমানে একই ধরনের কোষ পাওয়া যায়।


কোষ পৃথককরণের পদ্ধতিঃ


কোষ পৃথককরণের দুটি পদ্ধতি আছে যথা-


১) যান্ত্রিক পদ্ধতি

২) রাসায়নিক বা এনজাইম পদ্ধতি।


১৯৬৯ সালে বিজ্ঞানী Gnanaam & Kulandaveleu বিভিন্ন প্রজাতীর উদ্ভিদের পাতা

 থেকে মেসোফিল কোষ বের করার যান্ত্রিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।

এ ক্ষেত্রে ১০ গ্রাম সতেজ পাতা মর্টারে নিয়ে ৪০ মি.লি চূর্ণকরণ মিডিয়াম যোগ করে

 পেষণ করে পর্যায়ক্রমে ছেঁকে এবং সেন্ট্রিফিউজ করে একক কোষ পৃথক করা হয়।

এ পদ্ধতিটি খুব ধীর এবং কম ব্যবহার করা হয়।


বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত প্রক্রিয়াটির নাম এনজাইম পদ্ধতি।

১৯৬৮ সালে Takebe ও তার সহকর্মীগণ পেকটিনেজ এনজাইম প্রয়োগ করে

 সর্বপ্রথম তামাকের পাতা থেকে একক কোষ পৃথককরণের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।


পাতা থেকে কোষ পৃথককরণঃ


রোগমুক্ত, সতেজ পূর্ণবিকশিত পাতা তরুন উদ্ভিদ হতে সংগ্রহ করা হয়।

পাতার নিম্নত্বক অপসারণ করে রক্ষীকোষ এবং এপিডার্মিস কোষ আলাদা করে

 ফেলা হয় এবং মেসোফিল টিস্যু হতে কোষ বের করে আনা হয়।


পাতার মেসোঠফল টিস্যু হতে কোষ পৃথককরণের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত চারটি ধাপ অনুসরণ করা হয়-

ক) পাতার পৃষ্ঠ জীবাণুমুক্তকরণ

খ) এপিডার্মিস অপসারণ

গ) এনজাইম প্রয়োগ

ঘ) কোষ পৃথককরণ ও পরিষ্কার করণ।


কোষ সাসপেনসন তৈরি এবং সংরক্ষণঃ


কোষ সাসপেনসনকে  একক কোষ আবাদের উৎস হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

 সংগৃহীত কোষ তরল আবাদ মিডিয়ামে নিয়ে এই সাসপেনসন তৈরি করা হয়।

বর্তমানে আবদী ক্যালাস থেকে সাসপেনসন তৈরি করা হয়। 

কোষ সাসপেনসন বেশিদিন রাখলে তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায় কারন কোষ

 সমূহ আবাদ মিডিয়ামে বিষাক্ত দ্রব্য নিঃসরণ করে ফলে কোষ মারা যায়। তাই একে

 নির্দিষ্ট সময় শেষে নতুন মিডিয়ামে উপ আবাদ করে সংরক্ষণ করতে হয়।


একক কোষ আবাদ পদ্ধতিঃ


কোষ প্লেটিং পদ্ধতিতে একক কোষ আবাদ করা হয়। ১৯৬০ সালে বিজ্ঞানী

 বার্জম্যান এ অবাদ পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেন। যা বার্জম্যান কোষ প্লেটিং নামে পরিচিত। 

০.৬-১% অ্যাগার সমৃদ্ধ আবাদ মডিয়াম একটি ফ্লাস্ক বা বিকারে নিয়ে ৩৫ ডিগ্রি

 সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানিপূর্ন পাত্রে রাখা হয়। অত:পর সমআয়তন কোষ

 সাসপেনসন আবাদ মিডিয়ামে যোগ করে মিশ্রণ তৈরি করা হয়। এবং খুব দ্রুত

 পেট্রিডিসের তলায় ছড়িয়ে পাতলা স্তর তৈরি করা হয় যেন মিডিয়াম জমাট বাধার

 পূর্বেই কোষ সর্বত্র সমভাবে ছড়িয়ে পড়ে।




একক কোষ আবাদ



অত:পর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে প্যারাফিল্ম দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। 

কোষ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে কি না তা স্টেরিও মাইক্রোসকোপ দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

২৫ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় ইনকুব্যশন করা হয়। ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই একক কোষ হতে কোষ গুচ্ছ তৈরি হয়।


কোষ আবাদের গুরুত্বঃ


১.একক কোষ আবাদের মাধ্যমে জৈব সংশ্লেষণ এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়ার পাথক্রম বিশ্লেষণ করা যায়।


২. উচ্চতর উদ্ভিদে কৃত্রিম উপায়ে মিউটেশন ঘটানো এবং তার নির্বাচনে একক

 কোষ আবাদের ব্যবহার অধিক ফলপ্রসু।


৩. কোষ আবাদের সময় স্বতস্ফূর্তভাবে অথবা কৃত্রিম উপায়ে প্রকারণা সৃষ্টি করা

 যায় যাকে সোমাক্লোনাল প্রকারণা বলে।কৃষি উন্নয়নে সোমাক্লোনাল প্রকারণার ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে।


৪. বহুকোষী উদ্ভিদেরর জৈব রাসায়নিক ও আণবিক স্তরে অন্তঃকোষীয় সম্পর্ক

 জানতে একক কোষ আবাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।


৫. কোষ আবাদ প্রোটোপ্লাস্ট আবাদের জন্য প্রোটোপ্লাস্টের অন্যতম উৎস হিসাবে

 ব্যবহৃত হয়।


৬. গৌণ বিপাকীয় দ্রব্য উৎপাদনে কোষ আবাদ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে

 অ্যালকালয়েড, গ্লাইকোসাইড, টারপেনয়েড, ফ্লেভর, সুগন্ধি, এগ্রোক্যামিক্যাল,

 বাণিজ্যিক কীটনাশক প্রভৃতি উৎপাদনে কোষ আবাদ ব্যবহারকরা হচ্ছে।


৭. বাণিজ্যিক ক্লোনাল প্রজনন, কৃত্রিম বীজ উৎপাদন প্রভৃতি ক্ষেত্রে ভ্রূণীয় কোষ

 সাসপেনসন আবাদের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।


৮. কোষ আবাদের মাধ্যমে জৈবিক এবং ভৌত পীড়ন প্রতিরোধী কোষ সারি নির্বাচন

 করে উন্নত জাত সৃষ্টি করা যায়।


৯.কোষ সাসপেনসন আবাদ হতে প্রাপ্ত দৈহিক ভ্রূণ দীর্ঘমেয়াদী জার্মপ্লাজম

 সংরক্ষণের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .  . . . . . . . . . . . . . .  . . . .  . . . . . . . . . . . . . .  . .  . . . 


No comments

Powered by Blogger.